কমিউনিস্ট পার্টির গাইবান্ধার বর্ষীয়ান নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা বাদল হাজী আর নেই!


পলাশবাড়ী(গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ- গণমানুষের নেতাখ্যাত কমিউনিস্ট পার্টির গাইবান্ধার বর্ষীয়ান নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম হোসেন তালুকদার (বাদল হাজী) বার্ধক্যজনিত অসুস্থ্যতায় ১২ জানুয়ারী সোমবার ভোরে ছেলের রংপুরের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাত্যাগ করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহির রাজিউন)।
 

মরহুমের জানাজা'র নামাজ ১২ জানুয়ারী সোমবার প্রথমে বাদ যোহর পলাশবাড়ী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ও পরে বাদ আসর সাদুল্লাপুর উপজেলার ঢোলভাঙ্গা  জানিপুর গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা'র নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
 

মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন পলাশবাড়ী উপজেলার ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক,সাংস্কৃতিক,পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ হতে পৃথক পৃথক ভাবে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করেছেন একই সাথে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

 

উল্লেখ্য, তিনি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার জানিপুর গ্রামে পিতা এসরাফিল হোসেন তালুকদার ও মাতা জোহুরা বেহম দমপ্তির ঘরে জন্মগ্রহন করেন। তিনি একাত্তরের স্বাধীনতা পূর্ব ১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়নে(মতিয়া গ্রæপ)ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে পা রাখেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে পলাশবাড়ী এলাকা তথা গোটা গাইবান্ধায় উল্লেখযোগ্য ভ‚মিকা রাখেন। ১৯৭০ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পদ লাভ করেন।

 

তৎকালীন গাইবান্ধা জেলা শহরে কমিউনিস্ট পার্টির একটি শাখা ছিল।ছিল পুরো-দস্তুর একটি শাখা কার্যালয়। ওইসময় কমিউনিস্ট পার্টির জেলা শাখায় নাম লিখিয়ে ছিলেন লুৎফর রহমান রঞ্জু,আবু সুফিয়ান বুলু,গণেশ প্রসাদ,একরাম হোসেন বাদল,শাহনেওয়াজ টুকুসহ অন্যান্যরা।
 

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি স্বতঃস্ফুর্ত ভারতের আসামের মানকের চরে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী তিনি দেশে এসে প্রথমত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি(ন্যাপ মোজাফফর)পরবর্তীতে সিপিবির রাজনীতির সাথে ওতোপ্রোতো সম্পৃক্ত হন। 

 

রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর সবধরনের যোগ্যতা থাকা সত্বেও পাটির নেতৃত্বে না থেকে তিনি পিছন থেকে সক্রিয় ভাবে দল পরিচালনা করতেন।সবশেষে তিনি বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এবং গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতির নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজনীতি থেকে তিনি অবসর নেন।
 

২০২২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির দ্বাদশ কংগ্রেসে তাঁকে 'পার্টি ভেটারেন কমরেড' সম্মাননা স্মারক প্রদান করা
হয়।গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বাসিন্দা হলেও তিনি স্বপরিবারে পলাশবাড়ী পৌরশহরের(উপজেলা রোড)কাজী পাড়ায় বসবাস করতেন।পাশাপাশি ফটো-স্টেট মেশিনসহ স্টেশনারি ব্যবসা করতেন। 

 

বয়সের ভারে নুইয়ে পড়ায় বেশ কয়েক বছর আগে থেকে তিনি রংপুর বিভাগীয় শহরে তাঁর ছেলের বাসায় বসবাস করে আসছেন। সদা হাস্যোজ্জ্বল,সৎ এবং মিশুক স্বভাবের এ মানুষটি তাঁর কর্মজীবনের কর্মক্ষেত্রে বরাবরই মানুষকে সুপরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে এসেছেন।

 

সেইসাথে এলাকার গরীব দুঃখীদের পাশে থেকে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত এবং দলীয় সমন্বয়ে সাধ্যমত সহায়তার হাত উন্মুক্ত রেখেছেন। জেলা জুড়ে তিনি গণমানুষের নেতা হিসাবে তিনি খ্যাতি পেয়েছেন।পরোপকারী নম্রভদ্র মানুষটির আত্মার মাগফেরাত কামনা করে সকলের নিকট দোআ কামনা করেছেন পরিবার ও শুভাকাংখিসহ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীগণ।


 

 

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


প্রধান উপদেষ্টা সম্পাদকঃ মোঃ নুরুল ইসলাম ওমর, সাবেক এমপি ও বিরোধী দলীয় হুইপ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ মাক্সুদুল আলম হাওলাদার

নির্বাহী সম্পাদকঃ এম নজরুল ইসলাম

ফোনঃ ০১৭১৭০১৬১৩০

যোগাযোগঃ অফিসঃ সাতমাথা, বগুড়া গাজীপুর অফিসঃ সিলমন, টঙ্গি, গাজীপুর

© 71 Vision ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।